Feelings and Experience with Life and Nature

Popular Posts

Friday, July 12, 2019

Ekti oshohai cheler bhalobashar Golpo | একটি অসহায় ছেলের ভালবাসার গল্প


একটি অসহায় ছেলের ভালবাসার গল্প


  এই গল্পটি একটি সত্য ঘটনা বললেই চলে। এটি একটি অসহায় ছেলের ভালবাসার গল্প, ছেলেটি থাকতো একটি গ্রামের, সেটি ছিল কলকাতা থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট একটি গ্রামে,এটি ছিল একটি পাহাড়ি এলাকা।



             অসহায় বলার মানে যার বাবা, মা আর কেউ থাকে না একে বলে অসহায়। কিন্তু ছেলেটার সবাই আছে মা,বাবা দুই বোন, বাবা সরকারি চাকরি করেন নিজেদের বাড়ি আছে। সে কোন  দিন বাবার সম্পত্তি,টাকা-পয়সা কে নিজের মনে করত না।খাওয়া-দাওয়া, জামাকাপড়, টাকা -পয়সার কোন অসুবিধা নেই,সবকিছু  ভালো ছিলো। বাবা মায়ের একটি মাত্র ছেলে আর দুটি মেয়ে।  তাও ছেলেটি নিজেকে অসহায় কেন মনে করে, তার কারণ ছেলেটি ছোটবেলা থেকে মা, বাবার ভালোবাসা কাকে বলে, সে কোনদিন বুঝতে পারেনি। তার মা-বাবা থাকতেও ছেলেটি নিজেকে একলা মনে করে, ছোটবেলা থেকে সে সবসময় একা থাকত মা বাবা ওকে একা বাড়িতে রেখে চলে যেতে। এ কাজে, ও কাজে ,আত্মীয়র বাড়ি, এখানে সেখানে চলে যেত। সেই ছোট্ট শিশু সারাদিন কোন খাওয়া দাওয়া নেই , কান্নায় বুক ফাটছে আর মুখে শুধু মা ডাক খিদের জ্বালায় শিশুটি কানতে কানতে ঘুমিয়ে পড়ল। মা বাবা বাড়ি ফিরল অনেক রাতে শিশুটিকে দেখতে গেল, গিয়ে দেখে শিশুটি ঘুমাচ্ছে। মা কিছু না বলে এসে দুজনে মিলে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ল । এটা একটা প্রতিদিনের মত হয়ে উঠল  বাবা মায়ের কাছে।

                 শিশুটি যখন আস্তে আস্তে বড় হতে লাগল,তখন সে বাইরে বেরিয়ে খেলা করতে শিখলো, খেলা করতে করতে ওর কিছু বন্ধুত্ব হল, ওর বয়সের ছেলেদের সঙ্গে। প্রতিদিন তাদের সাথে খেলা করতে করতে ওদের সাথে ছেলেটির খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল । কিছুদিন পরে ছেলেটিকে  গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দিলো। ছেলেটি প্রতিদিন ওর বন্ধুদের সাথে একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া-আসা করতো। ছেলেটির যখন খিদে পেত ওর বন্ধুরা তাকে নিজের বাড়ি থেকে নিয়ে এসে খাওয়া তো ।
ছেলেটির কোন কিছু প্রয়োজন হলে ওর বন্ধুরা তাকে সাহায্য করতো ।মা বাবা তাকে দেখে তো, কিন্তু মা-বাবা সঙ্গে থাকত না । একটি সন্তানের সব থেকে বেশি প্রয়োজন মা-বাবা, স্নেহ, ভালোবাসা, আদর তার কপালে ছিলো না।সে কোনদিন বুঝতে পারেনি মা-বাবা ভালোবাসা কাকে বলে, একটা পরিবার কাকে বলে। পরিবার মানে সবাই একসাথে থাকা, একে অপরের জন্য বাঁচা, বিপদে-আপদে পাশে থাকা এটাই পরিবার,কিন্তু তার কপালে পরিবারের সুখ ছিল না।

কিছুদিন পরে ওর একটি বোন হল, সে বোনকে দেখে খুব খুশি হলো, বোনকে খুব ভালবাসতে। বোনকে দেখাশোনা করা, তাকে মানুষ করা, সে নিজে একটি ছোট হয়ে, সে তার বোনকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে। ভালোবেসে তাকে খাওয়া তো, তাকে স্নান করা তো, জামা কাপড় নোংরা করলে, জামা কাপড় পাল্টে তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখত। ছেলেটিকে তার সাথে সাথে বাড়ির নানা কাজ ও করতে হতো।
কিছুদিন পরে, তারা আরও একটি বোন জন্ম নিলে, তাকে ও ঠিক সে একই ভাবে মানুষ করতে লাগলো। সে তার দুটো বোনকে খুবই ভালবাসত, কারণ সে ছোটবেলা থেকে তাদেরকে নিজে হাতে মানুষ করেছে।  তার মা যখন বাইরে কোথাও যেতো, তার দুই বোনকে তার  মা ছেলেটির কাছে রেখে যেত। বোনেরা  যদি কাঁদতো তাহলে ছেলেটি তাদের মুখে দুধ বানিয়ে তাদের খাওয়া তো। তাদেরকে বাইরে নিয়ে যেতে ঘুরতে, খোলা আকাশের নিচে সুন্দর প্রকৃতিতে।  এটা ছেলেটির প্রতিদিনের মত কাজ হয়ে উঠল। ছেলেটি লেখাপড়ায় খুবই ভালো ছিল কিন্তু ছেলেটি সারাদিনে এত কাজ করতো পড়ার সময় পেত না। স্কুল যাওয়ার সময় পেত না, স্কুল ও ঠিকমতো যেতে পারত না।কিন্তু সে তার পড়াশোনা ছাড়লো না, সময় মতো ঠিক ছেলেটি নিজের পড়াশোনা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল ।



                       ছেলেটি প্রকৃতিকে খুব ভালোবাসতো, মা-বাবার কাছে একটি সন্তান যতটা আপন থাকে, ঠিক তেমনি ছেলেটি এইভাবে প্রকৃতিকে নিজের সবকিছু মনে করতো। গাছপালা,পশুপাখি ,পাহাড়-পর্বত, জল, মাটি সবকিছু নিজের পরিবার মনে করত। মা বাবার ভালোবাসা সে পায়নি, প্রকৃতি ভালোবাসা তার কাছে বাবা মায়ের ভালোবাসার মতো, সে প্রকৃতিকে নিজের পরিবার মনে করত। গাছপালা, পশুপাখি, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত প্রকৃতি সবাই তার বন্ধু হয়ে উঠল।  ও তাদের সাথে খোলা আকাশের নিচে নিঃশ্বাস নিতে খুব ভালবাসত। গাছের ফল খেতে,নতুন গাছ লাগাতে, গাছে জল দিতে, পশু পাখিকে  জল খাওয়া তো, পাহাড়ের উপরে উঠে তাকে পরিষ্কার করত। পাহাড়ের পাশে একটি মন্দির ছিল, সেখানে সে প্রতিদিন পুজো করে, প্রকৃতিকে প্রণাম করে, তার সারাদিন শুরু হতো। সে তার বাবা মাকে খুবই শ্রদ্ধা করত, ভালোবাসত। তাদের মুখের উপরে কোনো দিন কোন কথা বলতো না, তাদের কথা মেনে চলত, কিন্তু সে কোনদিন মা বাবার ভালোবাসা পেলো না ।সে নিজেকে একলা মনে করত,কিন্তু প্রকৃতি তাকে আপন করে নিয়েছিল ।

দেখতে দেখতে অনেকদিন হয়ে গেল, সে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলো ভালো নাম্বারে। সে ভাবল কলকাতায় এসে কাজ করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে তার নিজের পড়াশোনা কে এগিয়ে নিয়ে যাবে।  বাড়ি থেকে কলকাতা চলে আসলো হাতে ছিল মাত্র কিছু টাকা, যেটা দিয়ে ও কে মেশে ঘর ভাড়া তে থাকতে হবে আবার নিজের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা ও করতে হবে। ওকে আবার একটা কাজও খুজতে হবে,যাতে ও কলকাতায় থেকে নিজের পড়াশোনা টা  করতে পারে। ওর কাছে যে টাকা ছিল সেটা দিয়ে মেশে একটা ঘর নিলো আর তার কাছে ছিল মাত্র কিছু টাকা। সেটা দিয়ে ও যদি কিছু কিনে খায়, তাহলে কাল সকালে উঠে কাজ খুঁজতে বের হতে পারবে না। ছেলেটি সেদিন রাতে জল খেয়ে ঘুমিয়ে পরল, ছেলেটি মেশে যে  ঘর ভাড়া নিয়েছিল, সেই ঘরে ওর সাথে আরো একজন থাকতো। পরের দিন উঠে সকাল-সকাল স্নান করল, ভগবান কে প্রণাম করে বেরিয়ে পরল কাজের সন্ধানে। সারাদিনটা ঘুরে এসে একটাও কাজ খুঁজে পেল না, হাতে আর এক টাকাও নেই। কি করবে, বাড়িতে মা বাবাকে বলাও যাবে না,মা-বাবা যা টাকা দিয়েছিল সব শেষ ঘর ভাড়া নিতে, বাইরে যেতে  সব টাকা শেষ হয়ে গেছে। এদিকে ও দুদিন ধরে কিছু খাইনি, শুধু জল খেয়ে আছে। কারণ কিছু খেতে গেলে তো টাকা লাগবে, হাতে এক টাকা ছিল না। এবারে কি করবে ও, বাড়ি ও ফিরে যেতে পারবে না, বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ছেলেটার কোন ইচ্ছাই নেই। তখন সময় বাজে সাড়ে সাতটা, ছেলেটি ঘরে বসে চিন্তা করছে ।

                          তখন হঠাৎ ঘরে ডুকলো, ছেলেটির সাথে যে মেশে থাকতো, সে অফিস থেকে বাড়ি ফিরলো। তখন মেশের ছেলেটি ওকে জিজ্ঞেস করল, তোমার বাড়ি কোথায়, তোমার নাম কি, এমন ভাবে বসে আছো কেন,খাওয়া দাওয়া হল। তখন ছেলেটি বলল হ্যাঁ ভাই আমি খেয়েছি, নাম বলল, কোথায়  থেকে এসেছে, সেটাও বললো মেসের ছেলেটি ওকে বলবো ভাই তুমি মিথ্যা কথা বলো না, তোমার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে, তুমি আজ দুদিন কিছু খাওনি, তাও ছেলেটি বলল না আমি খেয়েছি তুমি খেয়ে নাও ভাই । মেশের ছেলেটি বলল আমার এক সাথে এক ঘরে থাকবো, আমরা একটা ভালো বন্ধু হয়ে ভাইয়ের মতো একসঙ্গে থাকবো দুজনে। মেশের ছেলেটা বলল ভাই এসে কিছু খেয়ে নাও, একসাথে খাবো চলো, ছেলেটি বলল না আমি খেয়েছি তুমি খেয়ে নাও। মেশের ছেলেটি বলল আমিও খাব না তুমি না খেলে, তখন ছেলেটি বলল ঠিক আছে আমি ও খাচ্ছি তুমিও খাওয় আমার সাথে। খেতে খেতে ছেলেটি জিজ্ঞাস করল মেশের ছেলেটি ভাই তুমি কী কাজ করো, আমার একটা কাজের খুবই দরকার। তুমি আমাকে একটা কাজ খুঁজে দিতে পারবে। তোমার অনেক উপকার হবে ভাই।

তারপর মেশের ছেলেটি বলল ঠিক আছে, আমি যেখানে কাজ করি তোমাকে নিয়ে যাব, তার আগে আমাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। আমি জিজ্ঞাসা করে তোমাকে বলবো। পরের দিন মেসের ছেলেটি, মেশে  গিয়ে ছেলেটিকে বলল আমি কথা বলেছি, চলো তোমার কাজ হয়ে যাবে। তখন ওর মুখে হাসি ফুটল,  ভাই তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমার কাজ খুঁজে দেওয়ার জন্য, পরের দিন দুজন বন্ধ মিলে অফিসে গেল, ওখানে গিয়ে ছেলেটি কাজটা পেয়ে গেল। প্রতিদিন দুজনে একসাথে যাওয়া-আসা করতো, একসাথে খাওয়া দাওয়া করতে লাগলো, দেখতে দেখতে এক মাস কেটে গেল। গ্রামের ছেলেটি ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পাস, ওর মেশের বন্ধুটি ছিল গ্যাজুয়েট। তাই অফিসে একটু সমস্যা হচ্ছিল টাকা পেতে গ্রামের ছেলেটিকে।মেশের ছেলেটি  বলল তুমি গ্যাজুয়েট থাকলে, সব কাজে সুবিধা হতো, আরো টাকা ও বেশি পেতে। কিন্তু গ্রামের ছেলেটি এখানে  কাজের সাথে সাথে পড়াশোনা ও করতে এসেছে । গ্রামের ছেলেটি এক মাসের টাকা পেয়ে কলেজে ভর্তি হল, মাসের শেষে ওর হাতে খুব একটা টাকা থাকতো না, তার কারণ ঘর ভাড়া, কলেজ খরচ, খাওয়া-দাওয়া, যাওয়া-আসা  অনেক খরচ আছে। ওর আরও একটা কাজের দরকার ছিলো ।

                          মেশ থেকে বেরিয়ে এক ঘণ্টা গেলে একটা খুব বড় রেস্টুরেন্ট আছে, ও সেখানে গিয়ে কথা বলল, বলার পর ওখানে ছেলেটার কাজটা হয়ে গেল। রাতে করতে হবে দশটা থেকে, ছেলেটি বলল হ্যাঁ আমি করতে পারব। সে সকালে অফিসে যেতে, অফিস থেকে বাড়ি আসত সাতটার সময়। মেসে এসে একটু বিশ্রাম করে, কিছু খেয়ে, পড়তে বসে, আবার সাড়ে নটায় মেস থেকে বের হয়ে যেত, রেস্টুরেন্টে কাজ করতে। রেস্টুরেন্ট থেকে মেশে  আসতো ভোর তিনটের সময়, সারারাত নাইটে কাজ করতো। বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে, আবার সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হতো, এটি ছেলেটির প্রতিদিনের কাজ ছিল। গ্রামের ছেলেটি খুব শত ছিল, সৎপথে পরিশ্রম করে রোজগার করার খুব ইচ্ছা আর ছেলেটি খুব ভালোবাসতো এটাকে। ওকে যদি কোন কিছু খারাপ লাগতো ও সঙ্গে সঙ্গে মুখে উপরে বলে দিতো। ওর মধ্যে সততা ছিল, ও কোনোদিন কাউকে ঠকাতে শিখিনি, সবাইকে ভালোবাসতে শিখেছে। তাই সবাই ওকে খুব ভালোবাসতো, ছেলেটি সবার সাথে মন থেকে মিশতে শিখেছে।

দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে গেল, ছেলেটি গ্রাজুয়েট পাস করল। তারপর ছেলেটা একটা খুব ভালো কাজ পেলো কলকাতা, কিন্তু ট্রেনিং এর জন্য যেতে হবে মুম্বাই, মুম্বাই যাওয়ার জন্য সব খরচ কোম্পানি দেবে। দশ জনকে পাঠাবে ট্রেনিং তার মধ্যে ছেলেটির নাম ছিল ট্রেনিং এ যাওয়ার জন্য, ট্রেনিং ছিল কুড়ি দিনের জন্য । কিন্তু ছেলেটি  যখন ফোন করলো, বাড়িতে বাবা মাকে জিজ্ঞেস করল, মা বাবা বলল যেতে হবে না। ছেলেটিকে বাড়ি ফিরতে বললো, ছেলেটি  বলল ঠিক আছে আমি মুম্বাই  যাবো না, কিন্তু এখন বাড়িতে ও ফিরতে পারব না। ছেলেটির মনটা ভেঙে গেল, ছেলেটি কোম্পানিতে ফোন করে বারণ করে দিলো। আমি মুম্বাই যেতে পারবো না, কলকাতায় কাজ করতে পারব। ছেলেটি প্রথমে যে অফিসে কাজ করছিল, আবার সেখানে গিয়ে সে কাজ করা শুরু করল। দেখতে দেখতে দু'বছর কেটে গেল, ছেলেটি মেশ ছেড়ে, একটি আলাদা একটা ঘর নিলো ভাড়াতে, সে ওখানে একা থাকতো। সে তখন আর রেস্টুরেন্টে কাজ করত না, আস্তে আস্তে ও নিজের একটা একটা করে সংসারে সব জিনিস কিনতে লাগলো। নিজের একটা ছোট সংসার তৈরি করে নিয়েছিল।

                        ছেলেটি সারাক্ষণই এটাই ভাবতো যে, ওর জীবনে এমন একজন আসুক, সে যেন সারা জীবন ওর সাথে থাকে, ওকে যেন কোনো দিন ছেড়ে  না যায়। কারন ছোটবেলা থেকে সে একা থেকে এসেছে, তাই ছেলেটি এমন কাউকে চাই, সে যেন ওর সাথে সুখে দুখে সঙ্গে থাকে, সারাটি জীবন ওকে যেন ভালোবেসে ওর সঙ্গে থাকে। এটাই ছিল তার প্রার্থনা,  ভগবান খুব তাড়াতাড়ি ছেলেটির মনের ইচ্ছা পূরণ করে দিলেন। কিছুদিন পরে ছেলেটির সাথে একটা  মেয়ের দেখা হলো,সেই মেয়েটি ওই একই অফিসে কাজ করত, নতুন এসেছিল অফিসে। মেয়েটার   ভদ্রতা,সভ্যতা,তার কথাবার্তা ছেলেটাকে খুব ভালো লাগতো। ছেলেটি মেয়েটিকে মনে মনে ভালোবাসতে লাগলো। কিন্তু ছেলেটি কোন দিন সাহস পায়নি কিছু বলার। ছেলেটি যেমন চাই তো মেয়েটি ঠিক তেমনি ছিল , মেয়েটি একদিন একটা দরকারে ছেলেটার কাছে গেল, ছেলেটি তাকে সাহায্য করলো। আস্তে আস্তে ওদের দুজনে মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে উঠলো, ছেলেটি বলতে ভয় করতো ভালোবাসার কথা মেয়েটিকে। কারণ মেয়েটির মান সম্মানের ভয় করতো ছেলেটা, মেয়েটির কোন ক্ষতি হোক সে চায় না, কারণ সেখানে তারা দুজনে কাজ করতো, তাই তাকে ভালোবাসার কথা বলতে পারবে না। আর ছেলেটি ওখানে কাজও করতে পারবে না, তার জন্যে যদি কাজ ছেড়ে দিতে হয় ছেলেটি ছেড়ে দেবে। কিন্তু মেয়েটার মান সম্মানের কোন ক্ষতি করবে না, সেখানে কোন রকমের না হয়, তার জন্যে ছেলেটি সেখানে এসব কোনো কথা বলতে চাইতো না।

ধীরে ধীরে ওদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের সৃষ্টি হল, বাড়িতে যাওয়া আসা, এক সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা, একসঙ্গে কাজ করার। দুজনের মনে ভালোবাসা জেগে উঠেছিল। কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলার কোনো সাহস ছিল না।




তারপর  একদিন মেয়েটি ওকে বলে দিল, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। তুমি কিছু মনে করবে না আমার কথায়। হ্যাঁ কিনা না সেটা সামনে বলে দেবে, তুমি আমাকে ভালোবাসো বা না বাসো আমি তোমাকে চিরকাল ভালবেসে যাবো। কিন্তু এই কথা শুনে তুমি বন্ধুত্ব শেষ করবে না, ছেলেটি তখন মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে বলল, আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি, তোমাকে বলার আমার সাহস হয়নি, তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না। কারণ আমি আর একা থাকতে পারছি না, ছোট বেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমি একা, আমার নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমার কেউ নেই, ভগবান তোমাকে আমার জন্য পাঠিয়েছেন, ভগবানের আশীর্বাদ আমাদের দুজনের উপরে আছে। তাই আমরা দুজনে আজ এক হয়েছি, এরপর ওদের দুজনের জীবন ভালোভাবে কাট ছিল। হঠাৎ কিছুদিন পরে এক সময় ছেলেটি মেয়েটিকে ফোন করে বললো, যে আমার বাড়ি থেকে ফোন করেছে, আমাকে বাড়ি যেতে হবে, মেয়েটি তখন বুঝতে পারলো না। যে ও  ছেলেটিকে কি বলবে ,মেয়েটি জিজ্ঞেস করলো, কেন যাবে, কবে আসবে। ছেলেটি বলল বলতে পারছি না কবে আসবো, আর মা ফোন করে বাড়ি যেতে বললো। মেয়েটি খুব রেগে গেল,  ছেলেটি সব কথা মেয়েটিকে বলতো, কিন্তু বাড়ি যাওয়ার কোনো কথা নিয়ে ছেলেটা মেয়েটির সাথে কোন আলোচনা করল না। হঠাৎ একদিন ফোন করে বলল, আমাকে বাড়ি যেতে হবে, মেয়েটি রেগে গিয়ে বলল, একেবারের জন্য চলে যাও, ঘরটাও ছেড়ে দাও, ছেলেটি কিছু না বলে ফোন রেখে দিল।  মেয়েটি অনেক ফোন করল, ছেলেটি ফোন কোন মতে তুললো না।

                        পরের দিন মেয়েটিকে ফোন করলো, ছেলেটি ফোন তুলে বললো, আমি বাড়ি চলে এসেছি,  ঘরটা ছেড়ে দিয়েছি। এই কথাটি শুনে মেয়েটি থমকে গেলো,ভাবলো যা করেছি আমি নিজেই করেছি, এটা আমার ভুল। তুমি চলে এসো, ছেলেটি বললো,এসে কোথায় থাকবো আমি, ঘর ছেড়ে দিলাম, সব জিনিস নিয়ে চলে এসেছি। এখন যাওয়াটা সম্ভব হবে না, এটা বলে ছেলেটি ফোন রেখে দিলো। এদিকে মেযেটি কষ্ট পাচ্ছিল আর ছেলেটাও কষ্ট পাচ্ছিল । কিন্তু দুজনের কথা হতো সময় মতো, মেয়েটি তার জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলো। কেটে গেলো চার বছর, কেউ কারোর সাথে কোনো দেখা নেই, দুজনে শুধু অপেক্ষায়। ছেলেটি বাড়ি আসার পর তার মা-বাবা তাকে কলকাতা যেতে বারণ করলো, ছেলেটি আর কলকাতা যেতে পারবে না।এই কথা শুনে ছেলেটি খুব কষ্ট পেলো, ছেলেটি ভাবলো কলকাতায় যাবো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে। কষ্টে তার বুক ফাটছে, এদিকে মেয়েটার ও একই অবস্তা। কিন্তু দুজনেই কোন ভারসা ছাড়লো না, আজও দুজন দুজনকে একই রকম ভালোবাসে, এরকম তাদের বিশ্বাস, ভরসা, ইচ্ছা, স্বপ্ন তাদের উপর ভগবানের হাত আছে।

তারা দুজন দুজনের জন্যে পৃথিবীতে জন্মনিয়েছে। ভগবান তাদের দুজনকে আশীর্বাদ করুক, তারা যেন খুব তাড়াতাড়ি এক হয়ে যায়। তাদের যেন দেখা হয়ে যায়। তারা যেন দুজনে স্বামী-স্ত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায়। এসো আমরা সবাই মিলে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, হে ঈশ্বর তুমি ওদের দুজনকে মিলিয়ে দাও। ওদের দুজনকে স্বামী-স্ত্রী বন্ধনে আবদ্ধ করো, ঈশ্বরের আশীর্বাদ যাদের মাথায় আছে, কেউ কোনদিন তাদের কোনো রকমের খারাপ করতে পারবে না। কারণ এদের দুজনকে মিলিয়েছেন ঈশ্বর, এদের খারাপ যে করতে যাবে, উল্টে তারাই খারাপ হয়ে যাবে। কারণ ভগবানের আগে আর পরে কেউ নেই ভগবান শুধু একটিমাত্র। এনার আশীর্বাদ যাদের মাথায় আছে, তাদের কেউ কোনদিন খারাপ করতে পারবে না ।

                           হে ঈশ্বর, তোমার কাছে আমরা সবাই মিলে। এই প্রার্থনা করি যে, ওদের দুজনকে এক করে দাও, ওদের ভালোবাসার ভরিয়ে দাও। ওদের দুজনকে স্বামী-স্ত্রী রূপে আশীর্বাদ করো, পৃথিবীতে সবার ভালবাসাকে তুমি ফিরিয়ে দাও।সবাইকে তুমি ভালো রেখো, সবার সঙ্গে তুমি  আশীর্বাদের মতো হয়ে থেকো।



No comments:

Post a Comment