Feelings and Experience with Life and Nature

Popular Posts

Thursday, August 8, 2019

Boishakh mashar 10 tarik | বৈশাখ মাসের 10 তারিখ


বৈশাখ মাসের 10 তারিখ

বৈশাখ মাসে এই কালবৈশাখী ঝড় টা ওঠে সারা এলাকাকে  ধ্বংস করে চলে যায়। মানুষজনের ঘরবাড়ি গাছপালা ভেঙে পুরো প্রকৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে চলে যায়। এই ঝড়ে কত মানুষের মৃত্যু কত মানুষের ঘরছাড়া হয়ে যায়। কত মানুষের মুখের অন্য পর্যন্ত জোটেনা কত মানুষের বাড়ি ভেঙে ধ্বংস হয়ে যায়। ঠিক তেমনি এই কালবৈশাখী ঝড়ে।

Plastic roof home
ছোট্ট একটি বাড়ি

একটি ছোট্ট পরিবারের সংসার কে নষ্ট করে দিয়েছিলে। এটি হচ্ছে একটি গ্রামের ছোট মেয়ে এবং তার পরিবারের ঘটনা। মেয়েটি থাকতো ছোট্ট একটি গ্রামে, গ্রামের শেষ প্রান্তে মেয়েটি দের ছোট্ট একটি বাড়ি ছিল। সেটা তাল পাতার ছাউনি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বাড়িতে মেয়েটি এবং তার মা-বাবা তিনজনে মিলে থাকতো। তারা খুব গরিব ছিল দুবেলা ভাল-মন্দ খাবার খেতে পেত না। মা বাবা দুজনে মিলে মাঠে কাজ করত আর মেয়েটি স্কুলে থেকে বাড়ী এসে। মা-বাবার কাছে মাঠে চলে যেত। মেয়েটির মা বাবা তাকে গ্রামের একটি স্কুলে ভর্তি করলো সেখানে কোনো রকমের টাকা পয়সা লাগতো না। বলে মেয়ে স্কুলে ভর্তির করে ছিলো। মেয়েটি সকালে স্কুলে যেতো স্কুল ছুটি হওয়ার আগে সব বাচ্চাদের কে স্কুল থেকে খিচুড়ি খেতে দিত। কিন্তু সেই মেয়েটি স্কুলের খিচুড়ি খেতে বসলে তার মা বাবার কথা মেয়েটির মনে পড়তো। তার মা-বাবা ও না খেয়ে রোদে দুজনে মিলে কাজ করছে। মেয়েটি তখন খিচুড়ি টা না খেয়ে একটা প্লাস্টিকে করে প্রতিদিন নিয়ে বাড়ি চলে আসতো।

স্কুলের দিদিমণি মেয়েটিকে খুব ভালোবাসতো। তারা গরীব ছিল বলে মেয়েটির স্কুল থেকে মেয়েটিকে একটু বেশি খিচুড়ি দিয়ে দিত যাতে তারা তিনজনে মিলে খেতে পারে। বাড়ি এসে বই খাতা রেখে মেয়েটি হাত মুখ ধুয়ে। তারপর খিচুড়ির প্লাস্টিক টা নিয়ে মাঠে চলে যেতো যেখানে মেয়েটির মা বাবা কাজ করছে। সেখানে গিয়ে মেয়েটি  তার মা বাবাকে ডেকে তিনজনে মিলে খিচুড়ি খেয়ে। তার মা-বাবা কাজ করতে চলে যেতো আর মেয়েটি গাছের তলায় বসে খেলা করতো। মেয়েটি প্রতিদিন এইভাবে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খিচুড়ি নিয়ে চলে আসত মাঠে। ওখানে তিনজন মিলে খাওয়া দাওয়া করে। মা-বাবা কাজ করত আর মেয়েটি ওখানে একটি বড়ো গাছের ছায়া বসে থাকত। প্রতিদিন কাজের শেষে সন্ধ্যাবেলায় কাজ ছেড়ে মালিকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে, তারপর তিনজন মিলে বাড়ি ফিরত। একদিন যদি কাজ না করে তাহলে তাদের খাওয়া হতো না সারাদিন জল খেয়ে থাকতে হতো।

প্রতিদিন কাজের শেষে টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির পথে মুদিখানার দোকান থেকে চাল ডাল আলু কিনে নিত। বাড়ি গিয়ে মেয়েটির মা রান্না বসিয়ে দিত মেয়েটির মা খুব ভালো রান্না করতো রান্নার স্বাদ ও খেতেখুব ভালো হতো। মেয়েটি পড়াশোনায় খুব ভাল ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলা বাড়িতে ফিরে মেয়েটি হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসতো। রান্না হয়ে গেলে সবাই একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করতো। খাওয়ার পর যদি কিছু বেঁচে যেতো তাহলে সেটা ওরা সকালে খেয়ে নিতো। প্রতিদিনের মত মেয়েটি সকালে উঠে স্নান করে যদি খাওয়ার কিছু থাকে তাহলে খেয়ে বা না থাকলে জল খেয়ে স্কুলে চলে যেত। মেয়েটির মা বাবা ও কাজে বেরিয়ে যেতে। মেয়েটির স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মাঠে এসে তিনজনে একসাথে বসে  খিচুড়ি খেয়ে নিয়ে, তার মা-বাবা কাজ করত আর মেয়েটি গাছের তলায় বসে একা একা খেলা করতো। মেয়েটি তার মা বাবাকে খুব ভালোবাসতো।মেয়েটি ছোট্ট হয়ে ও নিজেদের অভাবের কথা বুঝতে পারত। সে কোনো দিন মা বাবার কাছে কোন কিছু নিয়ে জেদ করতো না। তাই মেয়েটিকে গ্রামের সবাই ভালোবাসতেো। দেখতে দেখতে এক বছর কেটে গেল। মেয়েটি একটু বড় হয়ে উঠল  কিন্তু তাদের অবস্থা ঠিক আগের মতই ছিল। দিন আনা দিন খাওয়া মা বাবা কাজে না গেলে তাদের খাওয়া হতো না। তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না এক বছর আগে যা ছিল ঠিক এক বছর পরেও সবকিছু একইরকম চলছিল।

বছরের প্রথম দিন বৈশাখ মাস পড়লো যেখানে মেয়েটার মা-বাবা কাজ করত সেই মালিকের বাড়ি তাদের তিনজনের দুপুরে খাওয়া দাওয়ার নেমন্তন্ন ছিল। সেদিন প্রথমবার মেয়েটির মা বাবা দুজনেই কাজে যাইনি। মেয়েটির মা বাবা প্রথম বার ছুটি করল মেয়েটি সেদিন খুব খুশি ছিল। সারাদিন মা বাবার সাথে বাড়িতে থাকবে, সারাদিন মায়ের কোলে ঘুমাবে আর মা তাকে আদর করবে ভালোবাসবে সারাদিন খুব মজা করবে। তারপর তিনজন মিলে স্নান করে পরিষ্কার জামা কাপড় পড়ে মালিকের বাড়ি গেল বেলা বারোটার সময়। মেয়েটা খুব খুশি ছিল জীবনের প্রথম কারোর বাড়ি নেমন্তন্ন খেতে এসেছে বাবা মায়ের সাথে। মেয়েটি সারাদিন খুব খুশি আনন্দ করছিল। মালিকের বাড়িতে খাওয়া দিতে শুরু করল, মেয়েটি আর তার মা-বাবা সবাই একসাথে খেতে বসলো। কত রকমের খাবার ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, আলুভাজা, ডাল, চিংড়ি, নানা রকম তরকারি পাপড়, চাটনি, দই, মিষ্টি, রসগোল্লা আরো কত কী। তিনজনে মিলে মন ভরে খাওয়া দাওয়া করলো। খাওয়া-দাওয়ার শেষে বাড়ি ফেরার সময়ে, মেয়েটির মা বাবা মালিকের পায়ে হাত দিয়ে প্রমাণ করে তাকে ধন্যবাদ জানালো। মালিক তার বউকে বললো ওদের কে রাতের খাবার দিয়ে দাওয়। যা রান্না হয়ে ছিল সব কিছু মিলিয়ে টিফিনে ভালো করে ভরতি করে দিয়ে দিলো। মালিক মেয়েটির মা বাবা কে খুব ভালোবাসতো। মেয়েটির মা বাবা খুব সত ভালো মনের মানুষ ছিলো। তাদের কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে মালিকের কাছে হাত পেতে চেয়ে নিতো। তাই মালিক ওদের কে খুব ভালোবাসতো। অনেক সময় এমন ও হয়েছে কাজের টাকা মালিক তাকে আগাম দিয়ে দিতো। মেয়েটির বাবা মা অনেক কাজ করে মালিকের টাকা সোদ করে দিতো। মেয়েটির মা বাবা মালিককে এবং তার বউকে অনেক ধন্যবাদ প্রণাম করলো।

এরপর মেয়েটিকে নিয়ে তার মা-বাবা বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলো। বাড়ি এসে সবাই  হাত মুখ ধুয়ে, রাতে সবাই একসাথে মন ভরে খাওয়া দাওয়া করলে ঘুমিয়ে পড়লো। সকালে উঠে রাতে কিছু খাবার বেঁচে গিয়েছিল সেগুলো তিনজন মিলে খেয়ে নিলো। মেয়েটি স্কুলে গেলো  আর তার মা বাবা কাজে বেরিয়ে গেলো। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে রোজগারের মতন খিচুড়ি নিয়ে মাঠে গিয়ে সবাই একসাথে খেয়ে। মেয়েটি খেলা করছিল গাছের নিচে বসে আর তার মা-বাবা কাজ করছিল। সন্ধ্যা সময় বাড়ি ফেরার পথে দেখে যে  আকাশের চারিদিকে অন্ধকার কালো মেঘে করে এলো। আস্তে আস্তে হাওয়া শুরু হলো সাথে সাথে বৃষ্টি ও পড়তে শুরু করলো। মেয়েটিকে নিয়ে তারা তার মা-বাবা তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এলো। তাদের বাড়ি টা খুব একটা ভালো ছিল না। তালপাতা আর মোটা প্লাস্টিক দিয়ে ছাউনি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিলো। শুধু বৃষ্টি হলে তাদের বাড়ির কোন কিছু ক্ষতি হত না কিন্তু হাওয়া ঝড় হলে বাড়িটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। সেদিন তারা রাতে কিছু খেতে পারলো না কারণ বৃষ্টিতে বাড়ির বাইরের  উনুনে পুরো জল জমে গিয়েছিল। তাই সেদিন রান্না না করে মুড়ি জল দিয়ে ভিজিয়ে খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। হাল্কা হাল্কা ঝড় বৃষ্টির সাথে বৈশাখ মাসের কিছুদিন কাটতে লাগলো। 

সেদিন ছিল বৈশাখ মাসের 10 তারিখ। এই 10 তারিখে টিকে ওই মেয়েটি জীবনে কোনদিন ভুলতে পারল না। সেদিন প্রতিদিনের মতো মেয়েটি স্কুলে গেলো এবং তার মা-বাবা কাজে বেরিয়ে গেলো। মেয়েটি বাড়ি ফিরে মাঠে গিয়ে একসাথে তিনজনে খাওয়া দাওয়া করে। মেয়েটি খেলা করতে লাগলো আর তার মা-বাবা কাজ করতে লাগলো। সেদিন আবহাওয়া ভালো ছিল তেমন কিছু হাওয়া ঝড় বৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিল না। সন্ধের সময়ে কাজ ছেড়ে মালিকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনজন বাড়ি ফেরার সময় দোকান থেকে চাল ডাল নিয়ে বাড়ি এসে। মেয়েটির মা চাল ডাল নিয়ে রান্না করতে গেলো। মেয়েটি হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসলো আর মেয়েটির বাবা বাড়ির বাইরে বসে ছিলো। তখন সময় প্রায় রাত আট টা বাজে হঠাৎ আকাশের চারিদিকে অন্ধকার কালো ঘন মেঘে গোটা আকাশ ছড়িয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে ঝোড়ো হাওয়া উঠতে শুরু করলো। মেয়েটির মা উনুনে রান্না করছিলো আর মেয়েটির বাবা বাড়ির বাইরে বসে ছিলো মেয়েটি বাড়ির ভিতরে একা ছিলো। মেয়েটির মা বাবা বুঝে উঠতে পারলো না যে এতো জোরে ঝড়টা উঠবে।



তখন হঠাৎ খুব জোরে একটা দমকা হাওয়ার সাথে সাথে খুব জোরে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলো। মেয়েটির বাড়ি ভেঙে পড়ে মেয়েটিকে চাপা  দিয়ে দিলো। ঝড়টা হঠাৎ উঠলো  বলে মেয়েটি বাড়ি থেকে বেরোতে পারল না। মেয়েটি বাড়িতে একা ছিল, তার মা-বাবা বাইরে ছিল বাড়ির ভেতরে যাওয়ার সময় টুকুও পেল না। ঝড়ের দমকা হাওয়াতে কিছু সেকেন্ডের মধ্যে তাদের বাড়ি ভেঙে মেয়েটিকে চাপা দিয়ে দিলো। তখন প্রচুর জোরে বৃষ্টি ঝড়ো হাওয়া হচ্ছিল। আশেপাশে তাদের কোন প্রতিবেশী ছিল না। কিন্তু ওই কালবৈশাখী ঝড় জলের রাতে কে কাকে দেখতে আসবে, সবাই নিজের নিজের বাড়িতে আছে। ঝড় বৃষ্টির দাপট এতো ছিল যে মেয়েটির মা বাবা মেয়েটিকে ভাঙ্গা বাড়ির ভেতর থেকে বের করতে পারছিলো না। মেয়েটি তালপাতা বাঁশের বেড়া প্লাস্টিকের নিচে চাপা পড়ে ছিল। মেয়েটি কিন্তু খুব শক্ত ছিল সে একটুও কান্নাকাটি করছিল না সে চুপচাপ তার নিচে ছিলো। মেয়েটির মা খুব কান্নাকাটি করছিল। একমাত্র ঈশ্বর পারে তাদেরকে ওই বিপদ থেকে রক্ষা করতে। দুজনে মিলে ওই ঝড় জলে সেগুলি সরাতে পারছে না, কি করবে বৃষ্টি ঝড় এত হচ্ছিল যে সেগুলো সরানো সম্ভব হচ্ছিল না। এভাবে এক ঘন্টা কেটে গেলো তারপর একটু একটু করে ঝড় কমতে লাগলো কিন্তু বৃষ্টি কমলো না। তখনই মেয়েটার মা-বাবা সেগুলি সরিয়ে ফেলে মেয়েটিকে বের করে নিলো অনেক কষ্টে।

মেয়েটিকে বের করে মা তাকে বুকে টেনে নিলো। মেয়েটির হাত পা কেটে গিয়েছিলো রক্ত পড়ছিলো, মেয়েটির মাথাতে ও লেগেছিলো। মেয়েটির মা তাড়াতাড়ি করে তার আঁচল দিয়ে সেই রক্তের জায়গাটা চেপে ধরলো। মেয়েটির বাবা ভাঙা বাড়িতে প্লাস্টিকের ছাউনি করে সেখানে তারা তিনজনে সারারাত জলে ভিজে বসে কাটিয়ে ছিলো। প্রচুর বেড়ে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল তাদের আশেপাশে কেউ নেই।

Radhe Krishna Mandir
ভগবান


 একমাত্র ভগবান তাদের সহায় মেয়েটির মা ঈশ্বরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রণাম জানালো। ভগবান তার মেয়েকে ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের কোলে। পরে সকালে বৃষ্টি থামল সব লোকজন তাদেরকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। অনেক লোকজনের অনেক রকমের কথা বলছিল। মেয়েটির বাবা কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না। সেদিন দুজনে কাজে না যাওয়া মালিক বুঝতে পারলো রাতে ঝড় বৃষ্টিতে ওদের কোন ক্ষতি হয়েছে। এই বলে মালিক তাদের কে দেখতে আসলো। এসে দেখে তাদের বাড়ি ভাড়া অবস্থায় পড়ে আছে। তারা তিনজন সারা রাত ভিজেছে, মেয়েটির হাতে পায়ে মাথায় খুব লেগেছে। মেয়েটির বাবা মালিককে সব কিছু বললো, তখন মালিক তাদেরকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করলো। যাতে মেয়েটিকে ডাক্তার দেখাতে পারে আর নিজের বাড়িকে ভালো করে তৈরি করতে পারে। মেয়েটির বাবা মা মালিকের পা জড়িয়ে ধরলো, তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানালো।

মেয়েটির বাবা মেয়েটিকে  ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে এসে নিজের ভাঙা বাড়ির কাজে হাত দিল। মালিক বললো তোমাদের বাড়ি ঠিক হয়ে গেলে তারপর তোমরা দুজনে মিলে কাজে এসো। এই বলে মালিক চলে গেলো। যার কেউ নেই তার একমাত্র ঈশ্বর আছে , সে ঠিক সবকিছু ঠিক করে দেবেন। একটা দরজা বন্ধ হলে হাজার দরজা খুলে যায়  ঈশ্বরের কৃপায়। মেয়েটির মা ঈশ্বরকে অনেক অনেক প্রনাম ধন্যবাদ জানালো। মালিকের কৃপায় কিছুদিনের মধ্যে তাদের একটা ভালো পাকা বাড়ি হল। ধীরে ধীরে তাদের সবকিছু ঠিক হতে লাগলো, মেয়েটিও স্কুলে যেতে লাগল এবং তার মা-বাবা ও কাজে যেতে লাগলো। এইভাবে এক বছর কেটে গেলো। আবার সেই বৈশাখ মাস ফিরে এলো, ঝড় বৃষ্টি পড়তে শুরু হলো। মেয়েটির মন থেকে সেই ভয়ের দৃশ্য এখনো কাটলো না। মেয়েটি ওই 10 তারিখ মনে করে রেখেছিলো, তার মা বাবা তাকে বললো তাদের আর কোন ভয় নেই ঈশ্বর আছে, তারা নিজেদের পাকা বাড়িতে আছে, সেদিন 10 তারিখ ছিল সেদিন মেয়েটি আরো ভয় করছিলো, সেই রাতে মেয়েটির কিছুতেই ঘুম আসছিল না। তখন তার মা তাকে বুকে টেনে নিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিল। মেয়েটি সকালে উঠে সবকিছু একইরকম দেখে মেয়েটি মন থেকে খুশি হলো আর ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানালো।

এইভাবে তাদের দিন কাটছিল। তারা তিনজন খুশিতে নিজের ছোট পরিবার  কে সুখের সংসার করে তুললো। কিন্তু মেয়েটি আজও সেই বৈশাখ মাসের 10 তারিখ ভুলতে পারিনি। এটা তার সারা জীবনের মতো মনে গেঁথে গিয়েছিলো, সে জীবনে কোনদিনও এই বৈশাখ মাসের 10 তারিখ ভুলতে পারবে না।

1 comment: